ঢাকা   ২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । রবিবার । বিকাল ৩:৪৩

কাঁঠালিয়ায় শতাধিক বাল্যবিবাহ বন্ধ করলেন সংরক্ষিত ইউপি সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঝালকাঠি জেলাধীন কাঁঠালিয়া উপজেলার, কাঁঠালিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য চার,পাঁচ, ছয় ও কাঁঠালিয়া মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিন। সাবিনা ইয়াসমিন দীর্ঘদিন ধরে বাল্যবিবাহ ও জনসেবা মূলক কাজ করে যাচ্ছেন ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক বাল্যবিয়ে বন্ধ করে রেকর্ড গড়েছেন। তার হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পাওয়া কিশোরীরা এখন সুশিক্ষিত হয়ে দেশ ও সুন্দর জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখছেন। সাবিনা ইয়াসমিন সংরক্ষিত ইউপি সদস্য, চার,পাঁচ, ছয়, নির্বাচনে জয় লাভ করে বিভিন্ন সময় গরীব দুঃখী মেহনতী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেন।
বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছিল। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী জেএসসি/জেডিসি কিংবা এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। সংরক্ষিত ইউপি সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, মাদক নির্মূল ও যৌন হয়রানি বন্ধসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ দমনে কঠোর হস্তক্ষেপ গ্রহণ করার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার মান-উন্নয়নে এলাকায় নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
তিনি বাল্যবিবাহ বন্ধের জন্য বিবাহ রেজিস্ট্রার (কাজীদের) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অপ্রাপ্ত ছেলে/মেয়েদের বিয়ের রেজিস্ট্রি করলে তার শাস্তি সম্পর্কে ধারণা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে ধারণা ও মসজিদের ইমামদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাল্যবিবাহের ও মাদকের কুফল এবং আইন সম্পর্কে সচেতন করা, গণমাধ্যম কর্মীদের সভার মাধ্যমে বাল্যবিবাহের সকল বিষয়ে অবহিত করে ব্যাপকভাবে প্রচার করেছেন।
৫ বছরে কাঁঠালিয়া ইউনিয়নে সংরক্ষিত ইউপি সদস্য, শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে সমাজের ভয়াবহ ব্যাধি বাল্যবিবাহ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডির মাধ্যমে গণশুনানির ব্যবস্থা চালু করে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন সংরক্ষিত ইউপি সদস্য। এখানে জনগণ তাদের অভিব্যক্তি, মতামত, অভিযোগ এবং পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তিনি ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সচেতন এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনার শিশুকে বিদ্যালয় পাঠিয়ে শিক্ষিত করুন, বাল্যবিবাহ বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। সকল উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সরকারকে সহযোগিতা করুন, সরকারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণে সহযোগিতা করুন, মাদকমুক্ত থাকুন ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করুন, সরকারি ভূমি অবৈধ দখল থেকে বিরত থাকুন, সরকারি রাস্তার পাশে কোনো অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ করবেন না, খাজনা পরিশোধ করে ইউনিয়নসহ দেশের উন্নয়নে সহায়তা করুন। কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের উন্নয়ন ও সার্বিক কর্মকাণ্ডে দলমত নির্বিশেষে আমাদের সহায়তা করুন।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, বহুবিবাহ, নারী নির্যাতন ও যৌতুক সংক্রান্ত মামলার মূলেই রয়েছে বাল্যবিবাহ। তাই যেমন করেই হোক বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদক সেবন বন্ধ করাসহ অন্যান্য অপরাধ দমন, এলাকার উন্নয়ন করে কাঁঠালিয়াকে অপরাধমুক্ত এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিত করাই হচ্ছে আমার মূল লক্ষ্য। তিনি অারো বলেন, সমাজসেবক, সমাজ সংস্কারক ও রাজনীতিবিদদের সৎ ও সহনশীল হতে হবে। আমার জন্ম মানুষের কল্যাণের জন্য। যতদিন বেঁচে থাকব মানুষের সেবায় কাজ করে যাব এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ অর্জনে নিরলস চেষ্টা করে কাঁঠালিয়া ইউনিয়নকে বাংলাদেশের অনুকরণীয় ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলব। ইউপি সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আনলবুনিয়া প্রাইমারি স্কুলে কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন বর্তমানে সাবেক সভাপতি সাবিনা ইয়াসমিন কয়েকবার কাঠালিয়া উপজেলার শ্রেষ্ঠ ইউপি সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। কাঁঠালিয়া আইনশৃঙ্খলা, কমিউনিটি পুলিশিং, মাদক, সন্ত্রাস বাল্যবিবাহ বন্ধ সহ সামাজিকভাবে অনেক কাজ করেছেন, সাবিনা ইয়াসমিন বর্তমান কাঁঠালিয়া নাগরিক ফরম এর মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক অন্যায় একে প্রতিহত করুন, এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলুন। বাল্যবিবাহ বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা উচিত। বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ একটি মারাত্মক সমস্যা৷ ইউনিসেফের শিশু ও নারী বিষয়ক প্রতিবেদনে অনুসারে বাংলাদেশের ৬৪ভাগ নারীর বিয়ে হয় ১৮ বছরের আগে৷ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন অনুসারে ছেলেদের বিবাহের বয়স নুন্যতম একুশ এবং মেয়েদের বয়স আঠারো হওয়া বাধ্যতামূলক৷ অশিক্ষা, দারিদ্র, নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক নানা কুসংস্কারের কারনে এ আইনের তোয়াক্কা না করে বাল্যবিবাহ হয়ে আসছে৷ বাল্যবিবাহের প্রধান কুফলঃ- নারী শিক্ষার অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া ছাড়াও বাল্যবিবাহের কারনে মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ মা হতে গিয়ে প্রতি ২০ মিনিটে একজন মা মারা যাচ্ছেন৷ অন্যদিকে প্রতি ঘন্টায় মারা যাচ্ছে একজন নবজাতক৷ নবজাতক বেঁচে থাকলেও অনেক সময় তাকে নানা শারীরিক ও মানসিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়৷ অপ্রাপ্ত বয়স্ক মা প্রতিবন্ধী শিশু জন্মদান করতে পারে৷ এছাড়া এতে গর্ভপাতের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়৷ বাল্যবিবাহের ফলে বিবাহ বিচ্ছেদের আশংকা তৈরী হওয়া ছাড়াও নানা পারিবারিক অশান্তি দেখা দেয়৷ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের উপায়ঃ- বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনটি বাস্তবায়নে ব্যাপক প্রচার/প্রচারনা করা প্রয়োজন৷ রেডিও, টেলিভিশনে ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে বাল্য বিবাহের কুফল সম্পর্কে জনগনকে সচেতন করা যেতে পারে৷ গ্রাম পর্যায়ে উঠান বৈঠক ও মা সমাবেশ এক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হবে৷ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করার জন্য প্রয়োজনে প্রশাসনের থেকে তাৎক্ষনিক বিবাহ বন্ধসহ মামলা রজ্জু করা যেতে পারে৷ জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যতীত কোন অবস্থায় নিকাহ রেজিষ্টার যেন বিবাহ নিবন্ধন না করেন। সেরূপ আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে৷ প্রতিটি ওয়ার্ডে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে৷ নবম ও দশম শ্রেনীর পাঠ্য বইতে এ বিষয়টি অর্ন্তভুক্ত করা হলে এর সুফল পাওয়া যাবে।

%d bloggers like this: