ঢাকা   ২৭শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । সোমবার । ভোর ৫:২৯

করোনায় অসহায় মধ্যবিত্ত ও শ্রমিকরা, বেকায়দায় বাড়ির মালিকরা

একুশের আলো ডেস্কঃ  বরিশালে এবার বাড়ির মালিকরা ভাড়াটিয়া সংকটে পড়েছে। হাজারো শ্রমিকরা হারিয়েছে তাদেও কর্ম সংস্থান। এক সময় এমন ছিল যখন ভাড়াটিয়ারা হন্নে হয়ে খুজেও একটি ভাল মানের বাসা খুজে পেতনা। যা এখন বিপরিত চিত্র। এখন উল্টো বাড়ির মালিকরা ভাড়াটিয়া খুজে পাচ্ছেনা। এই সংকটের সুত্রপাত ঘটে করোনার উৎপত্তির পরে। বিশ্বব্যাপি করোনা প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় প্রথম দিকে একবার লক ডাউন এবং তৎপরবর্তি অবনতিশীল পরিস্থিতির কারনে অনেকে তাদেও কর্ম হারিয়ে ফেলে। সেই সাথে দেখা দেয় বিশ্ব মন্দার। সবকিছু ছপিয়ে খেটে খাওয়া বা কর্মজীবি মানুষরা পড়ে বেকায়দায়। মাসিক জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই যারা ইতিপূর্বে বরিশালে ১০/১২ হাজার টাকায় বাসা ভাড়া থাকতো তারা এখন ৫/৬ হাজার টাকার বেশি বাড়ি ভাড়া দিতে না পেরে বাসা ছাড়ছেন । সেই সাথে মধ্যবিত্তরা পড়েছে আরও বেকায়দায়, তাদের অনেকেরই উপার্জন সর্বনি¤œ পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় ভাড়া বাড়ি বা বাসা ছেড়ে গ্রামের পথে পাঁ বাড়িয়েছে। আর এত করে বরিশালে বাড়ির মালিকরা অসহায় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যাদের গৃহলোন রয়েছে। তারা আরও সমস্যায় পড়েছে, ভাড়া সময়মত না পেলেও লোনের অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে সময়মত। এ অবস্থা বেশিদিন চললে পরিস্থিতি আরও প্রকট আকার ধারন করবে বলে জানান অনেক বাড়ির মালিক। তাই ইতোমধ্যে অনেক বাড়ির সামনে নতুন করে‘বাড়িভাড়া দেয়া হবে’ বলে সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছেন। নগরীর মল্লিক রোডে এরকম সাইবোর্ড চোঁখে পড়ে প্রায় ২৫ টি, এছাড়া ব্রাউন কম্পাউন্ড সড়ক,বগুরা রোড,আম বাগান জব্বার মিয়ার গলি,কাউনিয়া, রুপাতলিতে কয়েক’শ বাড়ির সামনে ‘টু লেট’ সম্বলিত সাইনবোর্ড চোখে পড়ে। রুপাতলি এলাকায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালের শত শত শিক্ষার্থী ভাড়া বাসায় বা মেস করে থাকতো। বিএম কলেজ এলাকাতেও একই রকম শিক্ষার্থীদের আনাগোনা ছিল যা এখন চোঁখেই পরেনা। ফলে ওইসব এলাকায় কয়েক’শ বাড়ির মালিকরা একইভাবে সাইনবোর্ড টানিয়ে রেখেছেন। নগরীতে ইতিপূর্বে হাজারো কোচিং সেন্টার আবাসিক, অনাবাসিক যেখানে হাজারো শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত ছিল তারাও এখন অধিকাংশ নগরীতে নেই। কয়েকজন ফ্লাট ও বাড়ির মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,পানির বিল, বিদ্যুৎ বিল,হোল্ডিং ট্যাক্সসহ যাদের ব্যাংক লোন রয়েছে তারা এতসব বিল পরিশোধ করে অনেকে নিঃস্ব হবার পথে। নগরীর এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে কর্মরত অনেক শ্রমিক যারা রুপাতলী ২৫ নং ওয়ার্ডেও আব্দুল বারেক মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসাবে থাকতো। করোনায় ওইসব শ্রমিকদেরকে ছাটাই করে দেয়ায় ওইসব শ্রমিকরা বাসা ছেড়ে চলে যায়, ফলে বাড়ির মালিক চরম সমস্যায় পড়ে গিয়েছে। এমইপি কারখানা থেকেও অনেক শ্রমিক ছাটাই করা হয়েছে। যাদেও বেতন ভাতদাদিও দেয়া হয়নি, ফলে তারা নগরী ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। কাউনিয়া বিসিক এলাকায় এরকম হাজারো শ্রমিক কাজ হাড়িয়ে গ্রামের বাড়ি চলে গিয়েছে। সেখানেও বাড়ির মালিকরা রয়েছে সমস্যার মধ্যে। এসব এলাকায় বিশেষ করে নি¤œ শ্রেনীর খেটে খাওয়া মানুষরা সল্প দামে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতো , ফলে ওইসব বাড়ির মালিকরাও সমস্যায় পড়ে গিয়েছে।বিষয়টি নিয়ে বরিশাল শ্রমিক কর্মচারি ঐক্য পরিষদেও আহবায়ক এ্যাডঃ একে আজাদ এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, ইতোমধ্যে বরিশালে বিভিন্ন কারখানায় হাজারো শ্রমিকের চাকরি চলে গিয়েছে বা তাদের বাধ্যতামূলক ছাটাই করা হয়েছে। তাদের বেতন ভাতাদি পর্যন্ত দেয়া হয়নি, বিষয়টি কেন্দ্রীয় শ্রম সংগঠনকে অবহিত করা হয়েছে, তবে সরকারিভাবে কোন ব্যবস্থা অদ্যাবধি নেয়া হয়নি । তাই আগামি ২৫ নভেম্বর তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সারাদেশে কর্মসূচি পালন করা হবে। সেখানে,কর্ম সংস্থান হারানো শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরবেন বলে জানান তিনি।

%d bloggers like this: