ঢাকা   ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । শনিবার । সকাল ১১:০৯

বরিশালে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে মানহীন সুরক্ষা সামগ্রী!

একুশের আলো ডেস্কঃ মাস্ক এখন সুরক্ষার পরিবর্তে ব্যবসার পন্য হয়ে দাড়িয়েছে। মূলত মাস্ক এবং পিপিইসহ অন্যান্য সরিক্ষা সামগ্রী কেবল করোনাকালীন সময় করোনা জীবানু থেকে ব্যাক্তিকে সুরক্ষার জন্য তৈরী এবং ব্যবহার কারার কথা। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে সেরকমই দেখা গেলেও কেবল বাংলাদেশে এর ব্যাতিক্রম লক্ষ করা যায়। সেই মার্চ মাসে করোনার প্রথম ওয়েভ শুরু হবার পরেই মাস্কসহ করোনার অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী তৈরী এবং বিপনন নিয়ে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি। এই দুর্নীতীতে এমনকি জড়িত হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্তব্যাক্তিরা। বরিশালে করোনায় প্রথম ওয়েভের সময় সামান্য ৫ টাকার মাস্ক বেচা বিক্রি হয়েছে২৫  থেকে ৩০ টাকায়, সেইসাথে হ্যান্ড গ্লোভস ও পিপিই ছিল সাধারনের ধরা ছোয়ার বাইরে। কেবল সরকারি হাসপাতাল এবং বেসরকারি গুটি কয়েক ক্লিনিক বা হাসপাতালে কেবল চিকিৎসক ও সেবিকারা এই পন্য গায়ে দিতে পারতো। তবে, ৬ মাস পরেই চিত্র পাল্টে যেতে থাকে। যেসব মাস্ক একশ থেকে দুই’শ টাকায় বিক্রি হত তা এখন ৪০/৫০ টাকায় নেমে এসেছে। পিপিই এখন ফার্মেসী এবং সার্জিক্যাল দোকানে ৫শ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যেই সহজে যে কেউ কিনতে পারে। তবে ব্যাত্যয় দেখা দিয়েছে মান নিয়ে যেসব মাস্ক, হ্যান্ড গ্লোভস এবং পিপিই এখন বরিশালের বাজারে পাওয়া যায়,তা মোটেও মান সম্পন্ন নয়। কেবল ব্যবসায়ীক লাভের জন্য এক শ্রেনীর অসাধেু ব্যবসায়ীরা এইসব পন্য সংবেদনশীল পন্যগুলোকে যাচ্ছে তাই উপাদান দিয়ে তৈরী করে বাজারে ছাড়ছে। কোন মনিটরিং না থাকায় সব পন্য এখন খোলা স্থানে রাস্তাঘাট, দোকানপাট, যে যেখানে পারছে, সেখানে বসেই বিক্রি করছে। আর ধুলাবালি মিশ্রিত ওইসব পন্য কিনে ক্রেতা সাধারন কতটুকো নিরাপদ থাকতে পারছে তা কেউ বলতে পারছেন। অবস্থা এমন দাড়িয়েছে যে, এখন মুদি মনোহরি দোকানেও করোনার সুরক্ষা সামগ্রী অহরহ হাতের নাগালে পাওয়া যায়। নগরী ঘুরে এর ভয়বহ চিত্র ছোখে পড়ে। নগরীর কাটপট্রি সিটি প্লাজার মিম মেডিসিন, নুর মেডিকেল ,এআর মেডিসিন, সাদ মেডিসিন। এছাড়া কাটপট্টিতে সার্জিক্রার এন্ড সান্টিফিক এ যে ধরনের পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইভমেন্ট বা (পিপিই) তা আদৌ কোন পিপিই না, এগুলো মুলত রেইনকোট হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে , ওই দোকানের স্বত্তাধিকারি এই রেইনকোটকেই পিপিই বলে চালিয়ে দিচ্ছে যার মুল্য ধরা হয়েছে ৫’শ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। নগরীর কাকলির মেড়ে অবস্থিত এমবি সার্জিক্যাল এবং শাহিন প্লাজায় মেডিসিন এন্ড সান্টিফিক এর দোকানে একই ধরনের রেইকেট জাতীয় পিপিই বিক্রি করছে দেদারসে। যা কোন ক্রমেই পিপিইর মত করোনা সুরক্ষা প্রদান করতে সক্ষম নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। আবার নগরীর গীর্জা মহল্লায়, সদর রোড, কোর্ট চত্তর, লঞ্চঘাট, নতুল্লাবাদ বাসষ্টান্ডসহ নগরীর অনেক স্থানেই খোলা স্থানে প্রশাসনের নাকের ডগায় ধুলাবালি মিশ্রিত পন্য বিক্রি করছে। যা মোটেও স্বাস্থ্য সম্মত নয়ই বরং এগুলো পরিধান করলে উল্টো করোনা ঝুকি আরও বারবে বৈকি কমবেনা। এপ্রিল মাসে এধরনের বিক্রির বিরুদ্ধে কয়েকদিন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল তখন পরিস্থিতি কিছুটা আয়ত্বে আসলেও বর্তমানে কোন অভিয়ান না থাকার কারনে এক শ্রেনীর ভ্রাম্যমান দোকানি এগুলো বিক্রি করছে। খোজ নিয়ে জানা গেছে, করোনার সুরক্ষা উপকরন এখন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘরে বসে তৈরী করে যা মোটেও স্বাস্থ্য সম্মত নয়। করোনা উপকরন সামগ্রী বিক্রির সাথে জড়িত ঢাকার পাইকারি ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান এর সাথে আলাপে জানায়, এক বাস্ক মাস্ক ১শ ৭০ টাকয় তাদের নিকট বিক্রি করে স্থানীয়ভাবে তৈরী কারকরা,পিপিই কেনেন ৫শ থেকে ৬’শ টাকায়, হ্যান্ড গ্লোভস এক বাস্কে ১’শ দাম ৫’শ টাকায় কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন। যা সাধারন মানুষের নিকট কয়েকগুন বেশি দামে বিক্রি করা হয়। বরিশাল নগরীর সকল বাজারে মুদির দোকানে পিয়াজ রসুন এর সাথেই মাস্ক ঝুলিয়ে দেদারসে বিক্রি করছে। বরিশাল শেরইবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক সৈয়দ ড. রিজাজুল রহমান বলেন, খোলা বাজারের মাস্কগুলো কোন ক্রমেই মান সম্মত নয়। মূলত সঠিকভাবে মান নিয়ন্ত্রন করলে মাস্ক এর তিন থেকে চারটি লেয়ার থাকতে হবে এবং মাস্ক এর উপরে পানি ঢেলে দিলে যদি চুষে নিতে পারে করে তাহলে সেটা মানহীণ এবং পানি না চুয়ালে সেটা মান সম্মত, এছাড়া পিপিইর বিষয়ে বলেন, যে সব পিপিই বাহিরের বাতাস পানি শরীরে প্রবেশ করতে পারবেনা সেগুলো মান সম্মত এবং সেগুলো বাতাস,পানি নিয়ন্ত্রন করতে পারবেনা তা মানহীণ। তিনি আরও বলেন, মানসম্মত উপকরন তৈরী করতে হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন লাগবে। যা বাজারে বিক্রিত পন্যের অধিকাংশেরই নেই । এসব পন্য ব্যবহার করলে উল্টো সুরক্ষার পরিবর্তে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনাই বেশি।

 

%d bloggers like this: