ঢাকা   ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । সোমবার । রাত ২:১৬

ঐ ‘‘পুলিশ’’ তুমি কি আমার বন্ধু হবে?

সুব্রত বিশ্বাস: কিছুদিন আগেও প্রধান সংবাদ শিরোনাম হতো পুলিশ বাহিনীর সংবাদ। পুলিশ মানেই নেতিবাচক সংবাদ। ঠিক এমনটাতেই আমরা অনেকটা অভ্যস্ত ছিলাম। কিন্তু গত কয়েকদিনে উল্টো চিত্র আমাদের সামনে। সবার মুখে মুখেই এখন পুলিশ বাহিনীর গুণগান। পুলিশের কর্মকাণ্ড প্রতিনিয়ত সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে। সারাবিশ্বে যখন মরণঘাতি করোনা হামলা করলো মানুষকে ঠিক তখনই আমরা মানবসেবার অন্যতম ব্রতী হয়ে পুলিশকে সামনের কাতারে পেলাম। আপনাদের নিশ্চয়ই খেয়াল আছে চীনের উহানে যখন এই অদৃশ্য শত্রুটি মানুষকে একের পর এক আঘাত করে সবকিছু তছনছ করে দিচ্ছিল ঠিক তখনই ঈশ্বরের প্রতিনিধি হয়ে প্রথমে পুলিশই জনগণের পাশে দাঁড়ায়। এরপর সারা বিশ্বে যখন এটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলো তখনও দেখলাম সাক্ষাৎ মৃত্যুকে উপেক্ষা করে পুলিশই সবার আগে উদ্ধার কাজে এগিয়ে এলো। বিশ্ব মিডিয়ার কল্যাণে আমরা ইউরোপ ও আমেরিকার পুলিশেরও দেখছি মৃত্যু ভয় উপেক্ষা করে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা সবাই জানি পুলিশের কাজ হলো আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা। কিন্তু আমরা এখানে চাক্ষুষ কী দেখছি? সারা বিশ্বের চিত্রই কিন্তু এক এবং অভিন্ন। এই একটি বাহিনী যাদের সরাসরি মানুষের সাথে প্রতিনিয়ত মিশতে হয়, কাজ করতে হয়। বাংলাদেশে যখন করোনা মহামারী রূপ ধারণ করলো তখন সরকারের পক্ষ থেকে তড়িৎ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো। আর তা বাস্তবায়নে পুলিশের ভুমিকা ছিলো অন্যতম। অন্য বাহিনীর ভূমিকাও প্রশংসার যোগ্য ছিলো। তবে পুলিশ ছিলো সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। আমরা কী দেখলাম? মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা থেকে শুরু করে শেষ অবধি করোনা আক্রান্ত রোগীর মরদেহের জানাযা পর্যন্ত পুলিশকে করতে হয়েছে। পুলিশ কখনো দাবি করেনি তার দায়িত্ব পালনকালে পিপিই দরকার। তার যাবতীয় নিরাপত্তা পোষাক দরকার। সবকিছুকে উপেক্ষা করে মানবসেবার জন্য তারা আজ মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। করোনা আক্রান্ত রোগীর দায়-দায়িত্ব যখন কেউ নিতে চাচ্ছে না, তখন পুলিশই সে দায়িত্ব পালন করছে। অসহায় কর্মহীন মানুষকে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের নির্দেশনায় বরিশাল পুলিশ প্রশাসন আজ নিজ দায়িত্ব মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। এমন অনেক পুলিশ কর্মকর্তা আছেন যারা নিজ দায়িত্বে অসহায় কর্মহীন মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। এমন চিত্রটা আজ শুধু বরিশাল পুলিশ প্রশাসনেই নয় সমগ্র বাংলাদেশের পুলিশ প্রশাসনেরই মধ্যেই দেখা গেছে। আপনারা অনেকেই বলবেন, এটি তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমিও আপনাদের মতই বলবো, এটি তাদের দায়িত্ব। তবে এমন দায়িত্ব তো অনেকেরই ছিলো। কতজন এই সংকটে সে দায়িত্ব পালন করেছে বা করেছেন? দায়িত্ব এবং কর্তব্য তো অনেকেরই ছিলো কতজন মানবিক এবং সংবেদনশীল হতে পেরেছে? শুধু আজ একটি কথাই চিৎকার করে আমার বলতে ইচ্ছে করে – ঐ ‘‘পুলিশ’’ তুমি কি আমার বন্ধু হবে?

%d bloggers like this: