ঢাকা   ২৮শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৪ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । মঙ্গলবার । দুপুর ১২:০১

এসো আমার কোলে ভুলিয়ে দেব কষ্ট(কুয়াকাটা আশিঘড়)

কুয়াকাটা থেকে ফিরে খাজা পিকু(বিশেষ প্রতিনিধি)॥
বৈচিত্রময় কুয়াকাটা এখানে রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র স্থান যেথায় দর্শনার্থীরা সুর্যদয় এবং সুর্যাস্তের বিরল দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য পায়। অসংখ্য চর, অরন্য এবং নয়নাভিরাম নানান স্থান। বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা শুধু যে সুর্যদ্বয় সুর্যাস্ত দেখবে তা নয় এখানে আরও রয়েছে প্রাচীন এবং বর্তমানে সৃষ্ট অনেক দর্শনীয় স্থান। এখান থেকে সুন্দরবনের দুবলার চর,কাকড়ার চরসহ অসংখ্য স্থান, যেখানে প্রকৃতি প্রেমিদের রয়েছে অফুরন্ত প্রাকৃতিক অপার সৌন্দর্য্য সুশোভিত মনোরম স্থান তারই একটি নতুন সংস্করন আশিঘড় নামক স্থানটি। কুয়াকাটা থেকে খানিকটা দুরে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এর চৌমাথা পয়েন্ট থেকে যেকোন যানে চড়ে ১০ মিনিটে পৌছে যাওয়া যায় আশিঘড়ে। অনেকের অজানা থাকলেও স্থানটি বর্তমানে দর্শনীয় হয়ে উঠেছে। যদিও পাকা রাস্তা নেই তবে কাঁচা রাস্তাটিও একে বেঁকে চলার সময় রাস্তার বাঁ পাশে নজরে পরে বিশাল সমুদ্র সৈকতের জলরাশি সাথে দেখা মেলে শুটকি মাছ সংরক্ষনের দৃশ্য,ডানপাশে বিশাল এলাকাজুড়ে শুধুই ধান ক্ষেত, যা মনকে রোমাঞ্চকর অনুভুতি প্রদান করে নিঃসন্দেহে। যে উদ্দেশ্যে আশিঘড়ে যাবার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম আমরা কজন, সেখানে পৌছতে আধাঘন্টা সময় লাগলেও এই অফুরান মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখে সবাই সময়জ্ঞান মনে রাখেনি। দুপুরের আহার শেষকরে পায়ে হেটে আশিঘড় এর মুল নামকরনের স্থানে বসবাসকারী জেলে পরিবারের সাথে কিছুটা আলাপ হলো জানালো তাদের আশা নিরাসার গল্প। এখানে কেউ একজন কুয়াকাটা সৈকতের শেষ প্রান্ত পশ্চিম পার্শ্বে আশিটি ঘড় নির্মান করে দেয় জেলেদের থাকার স্থান হিসাবে। তারপর থেকে ওই স্থানে কিছু সংক্ষক জেলেরা নিবাস তৈরী করে জীবিকার তাগিদে, তাদের প্রধান কাজ কেবল সমুদ্রে মৎস শিকার। সকাল হলেই তারা মৎস শিকারে বেড়িয়ে পরে, গৃহিনীরা বাসায় বসে না থেকে সুটকি তৈরীতে ব্যস্ত সময় কাটায়। যদিও লোকালয়ের একবারে নিকটে তবুও শহুরে হালচাল এখানে ছোয়া লাগাতে পারেনি। কুয়াকাটা পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড এর ভিতরে অবস্থিত হলেও এখনও পিডিবির বিদ্যুতের আওতায় আসেনি, ফলে মাঝে মধ্যেই বিদ্যুতের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় বসবাসকারীদের। নেই সুপেয় পানির জন্য গভীর নলকুপ। সরকারি সাহায্য পায় কিনা এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল একাধিক পরিবারের নিকট,তাদের উত্তর ছিল সাদামাটা, বলেন, নির্বাচনকালীন সময় জনপ্রতিনিধিরা অনেক আশ্বাস দিলেও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আর কোন খোজ রাখেনা কেই । সরকারি সাহায্য সহযোগিতা কেউ পায়না এমন অভিযোগ বিস্তর। আমাদের সফরকালীন সময়ে যেহেতু পৌরসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ছিল তাই ক্ষনে ক্ষনে ভ্যান গাড়িতে দীর্ঘ মাইক লাগিয়ে প্রচারনার তীব্র আওয়াজ কানে আসছিল। সাধারন মানুষ সারা বছর কিছু না পেলেও নির্বাচনী আমেজে তাদেরকেও অংশিদার হতে দেখা গেছে। এ যেন এক ভিন্ন পৃথিবী। সারাদিন কর্মব্যাস্থ আর রাতে নৈশ আহারে উদরপুর্তি করে সাগরের ঢেউয়ের শব্দে বাউল সঙ্গীত শুনে নিদ্রা যাপন। কারো মনে কোন ক্ষোভ দুঃখের লেসমাত্র নেই। এতো গেল মানুষের কথা,নৈসৈর্গিক সৌন্দর্য্য এখানে অফুরন্ত একেবারে সৈকতের শেষ প্রান্তে দাড়ালে সমুদ্রের বিশালতা মনকে ছুঁয়ে যায়, মনে হয় ওপারে পানি ছাড়া আর কিছুই নেই। যদিও ডানে ৩০ কিলোমিটার সমুদ্র পাড়ি দিলেই সুন্দরবন,তবে তা বোঝার উপায় নেই। আর সুর্যাস্ত এখান থেকেই সবচেয়ে ভাল দেখা যায়। সন্ধার আগাক্ষনে সমুদ্রের পাড়ে দাড়ালে ঢেউ আর সুর্য্য মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়, মনে হয় একা আমি ছাড়া কেউ নেই, সৃষ্টিকর্তার বিশালতার প্রমান সহযেই এখানে অনুমেয়। সন্ধা নামার পরে সমুদ্র যেন ঢেউ ছড়িয়ে গান শোনায়। নেই কারো মনে অহংকার বিদ্বেশ,ঘৃনা, ভয়,হিংসা। সবকিছু ছাপিয়ে আশিঘড় যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে, আর বলছে এসো আমার কোলে আমি তোমাদের উদ্বেলিত করবো, ভুলিয়ে দেব যত কষ্ট।

%d bloggers like this: