ঢাকা   ২৮শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । সোমবার । রাত ২:৩৭

ইউপি নির্বাচিন, মেহেন্দিগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে দলের বিরুদ্ধে পংকজ অনুসারীরা

অনলাইন ডেস্কঃ আ’লীগ সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ উপেক্ষা করে মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া ইউপি পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রতিবাদ করে এবং মনোনয়ন বোর্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন উপজেলা আ’লীগের একাংশ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধায় পাতারহাট বন্দরের আ’লীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে বের হয় বিক্ষোভ মিছিলটি। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম ভুলু। মিছিল শেষে পথ সভায় খোরশেদ আলম ভুলু বক্তব্যে দিতে গিয়ে নৌকার প্রার্থী এবং মনোনয়ন বোর্ডের সমালোচনা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি শহীদ শাহ, সুভাষ চন্দ্র সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান রিপন দেওয়ান প্রমুখ। তাদের উস্কানিমূলক বক্তব্যেতে নির্বাচনী এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব কামাল উদ্দিন খান বলেন নেত্রী যাকে যৌগ্য মনে করেছে তাকে নিমিনেশন দিয়েছেন,কেউ যদি নৌকার বিপক্ষে বলে তা তার ব্যাক্তিগত বিষয় ।
উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে প্রার্থী হওয়া ও এই বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টিকে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের সর্বোচ্চ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এটা করে তারা দলের বিরুদ্ধে ও দলের শীর্ষ পর্যায়ের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
বিষয়টি উপজেলা ও জেলার শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের ভাবিয়ে তুলেছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে থাকবে। উল্লেখ পংকজ নাথ অনুসারী এই অংশটি এর আগেও ২টি উপজেলাসহ ৮ টি ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিপরিত বিদ্রোহী প্রার্থী দাড় করিয়ে নৌকার প্রার্থীকে হারিয়েছে। গত ইউপি নির্বাচনে ভাষানচরে নৌকার কর্মী সমির চারু নামের এক যুবককে কুপিয়ে খুন করে তার সমর্থীত আনারস প্রতিকের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর সন্ত্রাসীরা, চানপুর ইউনিয়নে নৌকায় ভোট দেওয়ায় আব্দুল মজিদ ফরাজী নামের এক নৌকার কর্মীকে নদীতে ফেলে অমানুষিক নির্যাতন এক পর্যায় দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে মারা যায় সে। বিএনপির প্রার্থী মাঠে থাকলেও নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী এখন আওয়ামী লীগ। ফলে নিজেরা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন। চরিত্র হননেও পিছপা হচ্ছেন না কেউ কেউ। এতে করে তৃণমূল আওয়ামী লীগে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। এমনকি দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী আঃ হালিম চৌধুরী মিলন’র বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট করে তার কর্মি সমর্থকদের উপর হামলা করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের নেতৃত্বে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী রুমা বেগম’র ছেলে তারেক এর সাথে যোগাযোগ করা জন্য তার ফোনে ০১৭১০৩১৩২৯৮ একাদিক বার চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকাতে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিএনপির প্রার্থীকে সুবিধা দিতে উপজেলা আ’লীগের একাংশ এমপি পংকজ অনুসারীরা দক্ষিন ইউনিয়নের রুমা বেগম উত্তরে ইউনিয়নে নুরুল ইসলাম মিঠু চৌধুরীকে বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন দেয়। বিদ্রোহীদের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদের ‘উৎসাহ’ দিচ্ছে পংকজ নাথ এমপির অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগ’র একাংশ। এতে তৃণমূলে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বেড়েছে। নির্বাচন হতে যাচ্ছে বাধাগ্রস্ত। স্থানীয় আ’লীগ বলছেন বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল ইসলাম মিঠুর বড় ভাই ওই ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক টিটু চৌধুরী। বিএনপির শাসনামলে উলানিয়া ইউনিয়নের আ’লীগের উপর বর্বরোচিত নির্যাতন করেছে তারা। জেলা আওয়ামীলীগ বলেছেন পংকজ নাথ’র অনুসারী উপজেলা আ’লীগের একাংশের পছন্দের প্রার্থী মনোনয়ন না পাওয়ায় তারা নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়াও এরা জেলা আওয়ামীলীগের কমান্ড এবং নির্দেশ মানছেন না। এরা হিজলা মেহেন্দিগঞ্জ দুই উপজেলার চেয়ারম্যানসহ ৮টি ইউনিয়নে নৌকা ডুবিয়েছে। নৌকার গনসংযোগে যাওয়ায় প্রায় ৪/৫ বছর আগে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মঈদুল ইসলামের উপর পংকজ নাথ’র নির্দেশে হামলা করা হয়। সে থেকে মঈদুল ইসলামকে এখন পর্যন্ত মেহেন্দিগঞ্জে উঠতে দেওয়া হয়নি।
পংকজ নাথ’র অনুসারীরা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করলে হত্যা ও মাদক মামলায় জড়িয়ে দেবার ভয় দেখাচ্ছে। জামাত-বিএনপির লোক নিয়ে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা মনোনীত প্রার্থীকে পরাজিত করতে উপজেলা আ’লীগের একাংশ মাঠে নেমেছে । আর তাদের পালে হাওয়া দিচ্ছে দলের ভেতরকারই একটি অংশ। ফলে ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’দের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন দলীয় প্রার্থীরা।
এমপির পছন্দের প্রার্থী মনোনয়ন না পাওয়ায় তার অনুসারীদের নৌকার বিপক্ষে দাঁড় করিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যদি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিবাদ বাড়ে, তাতে বিএনপির লাভ হবে। রেজাল্ট তাদের পক্ষে যাবে।
নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস বলেন খোরশেদ কোন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি না তাকে কে সভাপতি দ্বায়িত্ব দিছে? ওরা দলকে ব্যবহার করে ফায়দা লুটছে, যার দলকে ভালবাসে তার জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ নির্দেশ অমান্য করতে পারে না। ওদের বিরুদ্ধে নৌকাকে হারাতে কাজ করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আছে, তদন্ত সাপেক্ষে কঠর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা বিষোদগারের ঘটনা ঘটাচ্ছে। তারা বলেন স্থানীয় এমপির বিরুদ্ধে এর আগেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে জমা পড়ে হাজারও অভিযোগ। তৃণমূলে তৈরি হচ্ছে গ্রুপ-সাব গ্রুপ। কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীর নাম পাঠানো নিয়ে ঘটেছে ‘অদ্ভুদ’ সব ঘটনা। মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেন ভোটাররা। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ পংকজ নাথ’র কথায় উঠ বস করে এবং পংকজ নাথ’র মতের বাহিরের লোকগুলোকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে।

%d bloggers like this: