ঢাকা   ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । শনিবার । সকাল ১১:৩৪

আজ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর জন্মদিন

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির প্রধান (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও সাংসদ আবুল হাসনাত অঅবদুল্লাহর ৭৬ তম জন্মদিন আজ। তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি।স্বাধীনতা বিরোধী এক শ্রেণীর মানুষের চক্রান্ত আর একদল সেনাসদস্যের বিপথগামিতা। দক্ষিণ বঙ্গের আওয়ামী রাজনীতির অভিভাবক খ্যাত আবুল হাসানাত অঅবদুল্লাহ’কে করেছে পিতা, সন্তান ও স্বজনহারা। কাছের মানুষদের হারিয়ে সাগর সমান শোক দিনের পর দিন বয়ে বেড়াচ্ছেন নীরবে-নিভৃতে। ১৫ আগস্ট ঘাতকের বুলেটে সন্তানহারা এই বাবা বরিশালের হাজারো আওয়ামী নেতাকর্মীদের নিজের সন্তান হিসেবে বুকে টেনে নিয়েছেন বলেই জানা গেছে। পরিবার-স্বজন হারিয়ে দলকেই বানিয়েছেন নিজের পরিবার। সংগ্রাম কিংবা বিপ্লবে বরিশাল অঞ্চলে যারাই আওয়ামীলীগের জন্য খেটেছেন তাদের মাথার ওপরে ছায়া দিয়েছেন বটবৃক্ষ সুলভ অভিভাবকের মতো। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর ওপর হামলার আগেই হামলা হয় মিন্টো রোডে অবস্থানকারী সেরনিয়াবাত পরিবারে। সেখানে সর্বপ্রথম যাকে উদ্দেশ্য করে গুলি চালানো হয় ঘাতকেরা ধারণা করেছিল তিনি হাসানাত আবদুল্লাহ। কিন্তু অলৌকিকভাবে সেদিন প্রাণে বেঁচে যান তিনি। প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁকে হারাতে হয়েছে পিতা তৎকালীন পানি, সেচ ও বিদ্যুৎ সম্পদ মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত, দুই বোন বেগম আরজু মনি ও বেবী সেরনিয়াবাত, ভাই আরিফ সেরনিয়াবাত, চাচাতো ভাই শহিদ সেরনিয়াবাত এবং মাত্র চার বছরের সন্তান সুকান্ত আবদুল্লাহ সেরনিয়াবাতকে। এছাড়া সেদিন তিনি হারিয়েছেন তাঁর মামা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ অন্যান্য কাছের পরিজনকে। রাজনীতির জন্য আত্মত্যাগের চূড়ান্ত উদাহরণ সৃষ্টি করলেও এই বিষয় নিয়ে কখনো করেননি আত্মপ্রচার।
১৫ আগস্ট যখন সেরনিয়াবাত পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল ক্রিসেন্ড ব্যান্ড দলের সদস্য লোলিত দাশ। এই ব্যক্তি নিজেও সেদিন ঘাতকের ১১ টি বুলেট বিদ্ধ হন। তিনি জানান, ঐদিন শহিদ সেরনিয়াবাতকে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ভেবেই প্রথমে গুলি করা হয়। কারণ শহিদ সেরনিয়াবাতের কোলে ছিলেন সুকান্ত আবদুল্লাহ এবং তিনি (শহিদ সেরনিয়াবাত) দাঁড়িয়েছিলেন সাহান আরা বেগমের (হাসানাত আবদুল্লাহর স্ত্রী) পাশে। এছাড়া শহিদ সেরনিয়াবাত এবং হাসানাত আবদুল্লাহর চেহারার মধ্যে বেশ সাদৃশ্য ছিল। তিনি (লোলিত) বলেন, ‘ঘাতকেরা সেরনিয়াবাত পরিবারের সকলকে দোতলার ঘর থেকে নীচে নামিয়ে এনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করায়। তারপর হাসানাত আবদুল্লাহ ভেবে শহিদ সেরনিয়াবাতকে প্রথম গুলি করে হত্যা করে। ঐ দিন সেখানে শহিদ সেরনিয়াবাত উপস্থিত না থাকলে ১৫ আগস্ট ট্র্যাজেডির প্রথম শাহাদাৎ বরণকারী হতেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। ৭৫ এর আগেও আবুল হাসানাত আবদুল্লাহকে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছেন বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. তালুকদার মোঃ ইউনুস। তিনি জানান, ১৫ আগস্ট ট্র্যাজেডির আগেও বরিশাল নগরীর বিবির পুকুর পাড়ে তার ওপর দুষ্কৃতিকারীরা গুলি বর্ষণ করে। কিন্তু সে যাত্রায় আল্লাহর মেহেরবানীতে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। মানুষের দোয়া ছিল বলেই বিভিন্ন বিপদ থেকে এভাবে অলৌকিক ভাবে রক্ষা পেয়েছেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। আওয়ামীলীগের এই নেতা উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সময়ে তিনি (হাসানাত) ও তাঁর পরিবার মৃত্যুর মুখে পতিত হলেও সবসময় তাঁরা থেকেছেন নিভৃতচারী। আজ যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের ঢোল নিজেরা পেটাতে ব্যাস্ত সেখানে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং তাঁর পরিবার সবসময় সকল ত্যাগ তিতিক্ষা নিয়ে আত্মপ্রচারে বিমুখ থেকেছেন। বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, ‘যারা স্বাধীন বাংলাদেশ চায় নি তারাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহকে পিতা, সন্তান ও আপনজন হারা করেছে। কিন্তু শোকের সমুদ্র বুকে চেপে দক্ষিণাঞ্চলের আওয়ামী রাজনীতির বটবৃক্ষ হয়েছেন তিনি। এক সন্তানকে হারিয়ে বরিশালের হাজারো আওয়ামী নেতাকর্মীদের নিজের সন্তানের মতো বুকে টেনে নিয়েছেন তিনি। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ রুবিনা আক্তার মিরা শৈশব থেকে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং তাঁর স্ত্রী সাহান আরা বেগমের সাহচার্য প্রাপ্ত হয়েছেন। আগস্ট ট্র্যাজেডিতে সন্তানহারা এই দম্পতি কতটা শোক বুকে চেপে দিনযাপন করেছেন তা নজর এড়িয়ে যায় নি এই আওয়ামীলীগ নেত্রীর। তিনি (রুবিনা আক্তার) জানান, এই পরিবারটির সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতায় দেখা গেছে কোনোদিন তারা ১৫ আগস্টের সর্বকনিষ্ঠ শহীদ ছোট্ট সুকান্ত বাবুকে এক মুহূর্তের জন্য ভুলতে পারেন নি। তাকে (সুকান্ত বাবু) হারানোর বেদনা এই দম্পতি ভাগ করে নিয়েছেন হাজারো সন্তান সমতুল্য নেতাকর্মীদের বুকে টেনে। প্রসংগত, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ১৯৪৪ সালে বরিশালের আগৈলঝাড়া এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে বরিশাল উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি অধুনালুপ্ত বরিশাল পৌরসভারও চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বরিশাল-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। হাসানাত আবদুল্লাহ ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ ছিলেন। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে। তার জ্যেষ্ঠ পুত্র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বর্তমানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র।

 

 

%d bloggers like this: