ঢাকা   ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । শনিবার । দুপুর ১২:১৩

অপ্রতিরোদ্ধ দালাল, (জিম্মি সদর হাসপাতালের রোগী)

নগরীর ভাটিখানা এলাকার কাগাশুরার গৃহবধু আমেনা বেগম(৩০) গত ১২ ডিশেম্বর গর্ভবতি থাকায় বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল(সদর)এ চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালের জরুরী বিভাগ থেকে টিকিট নিয়ে ওয়ার্ডে যাবার সময় তার পিছু নেয় হাসপাতালে চিহ্নিত দালাল সুমন। প্রসুতি ওয়ার্ডে যাবার পর থেকে ভর্র্তির সব দ্বায়ীত্ব নিজ উদ্দোগেই করে সুমন। প্রাথমিক অবস্থায় মনে হচ্ছিল সেচ্ছাসেবক ব্যাক্তি এবং যথেষ্ট পরউপকারি। চিকিৎসক যখন অ¯্রপচারের জন্য ওষুধ লিখে দেয়,এরপরেই ভোল পাল্টে ফেলে সুমন। গৃহবধুর ছোট ভাই ফারুক গাজির নিকট আশ্বস্ত করে এই বলে যে, ডাক্তারের দেয়া ওষুধ তার নির্দেশিত ফার্মেসি থেকে কিনলে অনেক কম দামে কেনা যাবে। এরপর হাসপাতালের বিপরীত দিকে অবস্থিত কুসুম মেডিসিন এবং হাজরা মেডিসিন থেকে ৩ হাজার দুইশত টাকার ওষুধ কিনে দেয় সুমন। এ সময় ছোট ভাই ফারুক গাজির সন্দেহ হলে জেলখানার সামনে হাবিব মেডিসিন এ গিয়ে ব্যবস্থাপত্র দেখালে তারা সর্বমোট ২ হাজার পাঁচশত টাকা দাম বলেন। ওষুধ কেনার টাকা হাতিয়ে নিয়ে সুমন তার উপকারি মনোভাব ত্যাগ করে সটকে পরে। ফারুক গাজি জানায়, কিছু বুঝে ওঠার আগেই দালাল সুমন তাদের ব্যবস্থাপত্রটি নিয়ে যায় এবং জোর করে সুমনের পূর্ব নির্ধারিত ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে দেয়। খোজ নিয়ে জানা গেছে, সুমনের মত আরও ১০/১২ জন চিহ্নিত দালাল সদর হাসপাতালে সক্রিয় রয়েছে। এরা দীর্ঘদিন যাবত ওই হাসপাতালে আগত রোগীদের বিভিন্নভাবে ভুল বুঝিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়,এছাড়া পাশ্ববর্তী ক্লিনিক বা ডায়াগনষ্টিক্স সেন্টার এবং ওষুধের দোকানে নিয়ে যায়। এরকম বহু ঘটনার কথা জানা থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নীরব। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে,এরসাথে হাসপাতালের নার্স এবং ওয়ার্ডবয়রাও জড়িত। সাথে যুক্ত হয়েছে ওষুধ প্রতিনিধিরা। সকাল হলেই ওষুধ প্রতিনিধি এবং দালাল যৌথভাবে রোগী ভাগানোর কাজে নামে। ওষুধ প্রতিনিধিরা দালালদের সাথে প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় তাদের নিজ নিজ ওষুধ কোম্পানির ওষুধ কিনতে প্ররোচিত করে রোগীর স্বজনদের। তাই হাসপাতালের সামনেই গড়ে উঠেছে বহু ক্লিনিক এবং ডায়াগনষ্টিক্স সেন্টার। এদের মুল কাজই হচ্ছে অসহায় রোগীদের ভাগিয়ে নিয়ে ওষুধ বিক্রিতে সহায়তা, ক্লিনিকে ভর্র্তির ব্যবস্থা করে দেয়া । সেক্ষেত্রে ওষুধ প্রতিনিধিরা কোম্পানি থেকে এবং দালালরা গোপনে ডায়াগনষ্টিক্স এবং ক্লিনিক থেকে পার্সেন্টিজ নেয়। এদের এই পার্সেন্টিজ দালালির জাতাকলে পিষ্ঠ হয় কেবল অসহায় রোগীরা। জানা গেছে রোগীর দালালদের সাথে চিকিৎসকদের রয়েছে গোপন সখ্যতা তাই হাসপাতালের সামনেই গড়ে উঠেছে একাধিক ক্লিনিক এবং ডায়াগনষ্টিক্স সেন্টার ,যার অধিকাংশের মালিকানাই সদর হাসপাতালের চিকিৎসক এবং কর্মচারি বা ওয়ার্ড বয়দের। হাসপাতালের বিপরিত পার্শ্বে অবস্থিত কুসুম ফার্মেসি,নুবা ড্রাগ হাউজ,শায়েস্তবাদ মেডিসিন, রানা মেডিসিন,কেয়া মেডিসিন, হাজরা মেডিসিনসহ অসংখ্য মেডিসিনের দোকানগুলোতে সব সময় দালালদের আনাগোনা থাকে। ঘটনার পরবর্তীতে উল্লেক্ষিত দালাল সুমনের খোজ করতে গিয়ে অত্যাশ্চর্য ঘটনা ঘটে। দেখা যায় দালাল সুমন সদর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ডাঃ আশিকুর রহমানের একান্ত কক্ষে খোসগল্পে মত্ত। এতে নিশ্চিতভাবে প্রতিয়মান হয় যে,চিকিৎসক,ওষুধ প্রতিনিধি,দালাল একাত্বতায় প্রতারনার কাজটি করা হচ্ছে। যার ভুক্তভোগী কেবল অসহায় রোগীরা। বিষয়টি নিয়ে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আরএমও) ভারপ্রাপ্ত ডাঃ মলয় কৃষœ বড়াল এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সম্প্রতি এই হাসপাতালে যোগদান করেছি,বিষয়টি নিয়ে তিনি উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

%d bloggers like this: