Logo
নোটিশ :
স্বাগতম একুশের আলো .....
সংবাদ শিরোনাম:
বরিশালে ক্ষতিগ্রস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহায়তা প্রদান বরিশালে নির্বাচনী সহিংসতায় আ’লীগ নেতার মৃত্যু,আহত ৪ শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ মিছিল বরিশালে খিদমাতুল মাদীনা হিফজুল কুরআন মাদ্রাসায় হিফজ প্রতিযোগীতা ও ছবক অনুষ্ঠিত  বরিশালে হিন্দু বৌদ্ধ,খ্রিস্টান যুব ঐক্য পরিষদ’র আয়োজনে শীতবস্ত্র বিতরণ বরিশালে লাইভে এসে যুবকের আত্নহত্যা! পিআইবির মহাপরিচালককে বরিশালের স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকবৃন্দের ফুলেল শুভেচ্ছা বিএমপি কমিশনারের সাথে ৩৭ তম এএসপি প্রবেশনারগণের সৌজন্য সাক্ষাৎ মির্জাগঞ্জে বিষপানে যুবকের আত্মহত্যা আমবাগানবাসীর শুভেচ্ছায় সিক্ত মহানগর আ’লীগের কোষাধ্যক্ষ তৌহিদুল ইসলাম বরিশালে কারিগরি শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

চাল নিয়ে কঠিন চালবাজি

বরিশালের বাজারে বহুদিন যাবত চাল নিয়ে ব্যবসায়ীদের চালবাজি চলছে। আর এতে করে দামতো কমছেইনা, উল্টো দেশীয় মোটা চালকে পাইজাম,কোনটাকে মিনিকেট আবার কোটনা উদ্ভট নামে বিক্রি করে চলছে এক রকম প্রতারনা। মোটা, সরু, চিকনসহ কয়েকশ নামে চালের নাম রয়েছে। এর কোনটা মোটা কোনটা চিকন আবার কোনটা লাল রংয়ের হতে দেখা যায়। সাধারনত বাজারে সহজলভ্য চিকন চাল সাধারন মানুষের নিকট অধিক প্রিয়। আর এই ধরনের পছন্দকে সুযোগ করে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ীরা মানুষকে ঠকানোর বিভিন্ন অপকৌশল এর পথ বেছে নেয়। প্রকৃত চালের আকার আকৃতি রং পরিবর্তন করে মানুষের নিকট লোভনীয় করে তোলে এবং সেইসাথে বাড়িয়ে দেয় দাম । সাধারনত যে দামে চাল বাজারে পাবার কথা তার চাইতে অনেক বেশি দাম হাকায় এই বলে যে, এ্টা মিনিকেট,এটা নাজির শাইল এটা পাইজাম, এটা বালাম বলে। উপরোল্লিখিত চালগুলো আমাদের দেশীয় উৎপাদিত এবং অধিকাংশ মোটা চাল। মোটা চালের নাম শুনলে আভিজাত্য ফুটে ওঠেনা বিধায় ক্রেতা সাধারন অনেকটা নাক ছিটকায়। তাই চালের আড়তদাররা কৌশল খাটিয়ে ওই চালকে আধুনিক মেশিনে দিয়ে ছেটে চিকন করে বাজারে ছাড়ে ফলে, স্বাভাবিকের চাইতে বেশি দামে বিক্রি করতে পারে। আসলে মিনিকেট নামের কোন চাল নেই। দেশের সর্ববৃহত মিনিকেট চালের মোকাম কুষ্ঠিয়ার খাজা নগরে। এখানে দেশের সর্ববৃহত চালের মোকাম। আর এই এলাকা থেকেই মোটা চাল সরু করার প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে জানা গেছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের আগে যে পরিমান চাল কুষ্ঠিয়া থেকে আসতো ,বর্তমানে তার চেয়ে বেশি আসে,সেই হিসাবে মিনিকেট নামক চালের আমদানিও বেশি আসে বা বাজারজাত করা হচ্ছে। বরিশালের চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জানান, মিনিকেট বলতে কোন চাল নেই, তিনি আরও বলেন এর ইতিহাস দীর্ঘ, এই চালটি ভারতের একটি ছোট আকৃতির ধান থেকেই তৈরী করা হত। পর্যায়ক্রমে এটি বাংলাদেশের বিশেষ করে বেনাপোল হয়ে যশোর জেলায় বিস্তার লাভ করে। ১৯৮৭ সালে যশোরের বিভিন্ন এলাকায় চিকন এই ধানের আবাদ ভাল হওয়ায় ওই সময় ছোট আকৃতির ওই চালটি সর্বমহলে প্রাধান্য পায়। চালটির নির্দিষ্ট কোন নাম ছিলনা বিধায় আকারে ছোট হবার কারনে ইংরেজি নাম দেয়া হয় ‘মিনি’ এর সাথে ছোট বস্তায় ‘কিট, চাল বিক্রির জন্য নেয়া হত বিধায় একসাথে এর নাম করন করা হয় ‘মিনিকিট’। পরবর্তীতে ওই মিনিকিট হয়ে যায় ‘মিনিকেট’ চাল হিসাবে। করোনা প্রাদুর্ভাবের ঠিক আগ মুহুর্তে সরকার বিভিন্ন প্রকারের চালের দাম নির্ধারন করে দেয়ায় আড়তদার এবং মিল মালিকরা অনেকটা বেকায়দায় পরে যায়। এর কিছুদিন পরেই তারা প্রায় সব ধরনের চিকন চালকে মেশিনে দিয়ে লম্বা, সরু, মোটা সকল প্রকারের চালকে মিনিকেট বানিয়ে বাজারজাত করা শুরু করে দেয়। বরিশালের কিছু পাইকারি চালের আড়তদাররা অভিযোগ করে বলেন, সরু যেকোন চালের সাথে ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ বিআর ২৮ নামের চাল ও মোটা জাতের ধানের চাল একসাথে মিশ্রিত করে মিনিকেটের মোড়কে বাজারজাত করছে। যারা কুষ্ঠিয়া থেকে চাল পাইকারি ক্রয় করেন তারাও বিষয়টি স্বীকার করেন। কুষ্ঠিয়ার খাজা নগর, আল্লাহর দুর্গ, রাজশাহীর, নওগা জেলায় এ ধরনের মিনিকেট চাল প্যাকেটজাত করার বড় বড় মোকাম রয়েছে বলে জানা গেছে। বরিশালের চালের বাজারে ঘুরে আরেক প্রতারন বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে, এ বিষয়ে নগরীর বটতলা এবং সাগরদী বাজারের দুই চাল ব্যবসায়ী জানায়, বালাম চালে রয়েছে চারটি প্রকারভেদ বালাম ২৮ এবং দুই নম্বর ২৮ চাল কিছুটা সরু হবার কারনে এই চালের বস্তাকেও মিনিকেট নামে চালায় ব্যবসায়ীরা, যা সাধারন মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। এভাবে একদিকে চালের মান প্রাপ্তী থেকে যেমন ক্রেতা সাধারন ঠকছে,ঠিক তেমনি চাল ব্যবসায়ীরা মুনাফা লুটে নিচ্ছে। আর তাই চালের বাজার স্থিতিশীল রাখাও কষ্টসাধ্য হচ্ছে। এ বিষয়ে মেডিসিন বিশেষ ডাঃ রিয়াজুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চাল তৈরী না করে প্রক্রিয়াজাত বা মেশিনে এর আকৃতি পরিবর্তন করা হলে ওই চাল খেলে মারাতœক শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। চালের উপরিভাগে লালচে আবরন চালের মূল পুষ্টির উৎস। সেটিকে মেশিনে পরিশুদ্ধ করার পরে এর আসল গুনাগুন নষ্ট হয়ে যায়। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হবার জন্যও বলেন।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *