Logo
নোটিশ :
স্বাগতম একুশের আলো .....
সংবাদ শিরোনাম:
একুশের আলো’র বিশেষ প্রতিনিধি তাহের’র পিতার ইন্তেকাল, শোক পৌর নির্বাচন, মেহেন্দিগঞ্জে নৌকার বিকল্প নেই- তালুকদার মোঃ ইউনুছ বরিশালে মহানগর ছাত্রলীগ নেতা সেজান মাহমুদ ইমরানের শুভেচ্ছা জলঢাকায় মুজিব জম্মশত বর্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে গৃহ ও জমি প্রদান বামরাইলে চেয়ারম্যান পদে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি সালাম সরদার নলছিটিতে নারী কাউন্সিলর প্রার্থীকে মারধরের অভিযোগ বরিশালে ১০০৯টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবার পেল জমিসহ ঘড় মির্জাগঞ্জে গলায় ফাঁস দিয়ে যুবতির আত্মহত্যা বরিশালে এসএসসি ০২ ব্যাচ’র পক্ষ থেকে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ দক্ষিনাঞ্চলবাসীর সপ্ন পূরনের সবশেষ সেতু চালু হচ্ছে জুনে

আজ বরিশাল মুক্ত দিবস

 

আজ ৮ ডিসেম্বর বরিশাল মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ে বরিশাল শহর থেকে ঘাটি গুটিয়ে পালিয়ে যায়। প্রতি বছর যথাযোগ্য মর্যাদায় বরিশাল মুক্ত দিবস পালনে কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে বরিশাল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও বরিশাল জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। তবে এবার করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সংক্ষিপ্তসারে কর্মসূচি পালন করা হয়। বরিশালে পাকিস্তানি বাহিনী প্রবেশ করে ২৫ এপ্রিল। গানবোট ও হেলিকপ্টারে করে হানাদার বাহিনীর একাধিক গ্রুপ স্টিমার ঘাট, বিসিক ও চরবাড়িয়া এলাকা দিয়ে শহরে প্রবেশ করে। চরবাড়িয়া থেকে আসা গ্রুপটি লাকুটিয়া সড়ক ধরে শহরে আসার পথে নির্বিচারে বাঙালিদের হত্যা করে। সন্ধ্যায় ওঠে নতুন বাজার (বগুরা) পুলিশ ফাঁড়িতে। অন্য দুটি গ্রুপ দখল করে শহরের অশি^নী কুমার হল ও জিলা স্কুল। আর পাকিস্তানি সোনাদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ওঠে সার্কিট হাউসে। ২৯ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদা কলোনি দখল করে তাদের ক্যাম্প বানায়।

ওয়াপদা কলোনীর এ ক্যাম্প থেকেই ঝালকাঠি, পটুয়াখালী ও ভোলায় অপারেশন চালাত পাকিস্তানিরা। তাছাড়া ওয়াপদা কলোনীর ২৫ নম্বর ভবনে শত শত বাঙালি মুক্তিকামী নারী-পুরুষকে ধরে নিয়ে গণহত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন করা হয়। এদের মধ্যে শহীদ হন মজিবর রহমান কাঞ্চন, শহীদ আলমগীর ও শহীদ নজরুলসহ অনেকে। এছাড়া স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজী আজিজুল ইসলামকে ৭১’র ৫ মে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনারা। ওয়াপদা কলোনির পেছনে দক্ষিণ পাশে খাদ্য বিভাগের কর্মচারীরা তার মরদেহ দাফন করেন। এ কারণে সেখানে নির্মিত হয়েছে বধ্যভূমি।
১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর বিকেল ৪টা থেকে বরিশালে কারফিউ জারি করেছিলো পাক বাহিনী। সীমান্তে মিত্র বাহিনী আক্রমণ শুরু করার পর ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকেই পাক সেনারা বরিশাল ত্যাগের প্রস্তুতি নিতে থাকে। বরিশাল শহর কেন্দ্রিক বিভিন্ন সড়ক পথ চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় হানাদাররা নৌ পথে পালাবার পরিকল্পনা করে। এ উদ্দেশ্যে যাত্রীবাহী স্টিমার ইরানী, কিউইসহ লঞ্চ ও কার্গো বরিশাল স্টিমার ঘাটে প্রস্তুত রাখা হয়। এসব নৌযানে করেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, পাক মিলিশিয়াসহ শহরের দালাল ও রাজাকার কমান্ডাররা বরিশাল ত্যাগ করে।
পাক সেনাবাহিনীর নৌযানগুলোর একাংশ চাঁদপুরের কাছে মেঘনা মোহনায় ভারতীয় মিত্রবাহিনীর বিমান হামলার কবলে পড়ে। তাদের কিউই জাহাজসহ গানবোট ও কার্গো ধ্বংস হয়। অপর অংশটি বরিশালের কদমতলা নদীতে ভারতীয় বিমানের বোমার আঘাতে ধ্বংস হয়। ফলে এসব জাহাজে পলায়নরত সকল পাক সেনা, মিলিশিয়া, রাজাকার কমান্ডার ও দালাল নিহত হয়। পাক বাহিনীর শহর ত্যাগের খবর পেয়ে ৮ ডিসেম্বর বিকাল ৩ টায় বরিশালের অদূরে অবস্থানরত সুলতান মাস্টার ও আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল প্রবেশ করে শহর নিয়ন্ত্রণে নেয়। পাশাপাশি সাত মাস অবরুদ্ধ বরিশালের মুক্তিকামী মানুষ বিজয়ের আনন্দে শ্লোগান দিয়ে দলে দলে রাস্তায় নেমে আসে। একই দিন বরিশালের পাশাপাশি হানাদার মুক্ত হয়েছিল ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা এবং পটুয়াখালী জেলা।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *